
বিশেষ প্রতিনিধি:
রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে তীব্র তৎপরতা শুরু হয়েছে। এর ফলে যেকোনো মুহূর্তে সংঘাতের আশঙ্কা করছেন সাধারণ পরিবহন শ্রমিক ও মালিকরা। অতীতেও টার্মিনাল ও পরিবহন খাতে নিয়ন্ত্রণ নিতে বিভিন্ন পক্ষের শোডাউন ও অস্থিরতার খবর গণমাধ্যমে এসেছে।
এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এবং সায়েদাবাদ টার্মিনাল কাঁচপুরে স্থানান্তরের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটেও নানা মহলের তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থিত স্থানীয় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজির হাতবদলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষের তৎপরতায় প্রায়ই সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সায়েদাবাদ টার্মিনালে আগের নিয়ন্ত্রণকারীদের স্থলাভিষিক্ত হতে বিএনপি ঘরানার বিভিন্ন নেতা ও সমর্থক পক্ষ তৎপরতা শুরু করেছে। টার্মিনালের আধিপত্য ও চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিতে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও অনুসারী বাহিনী আলাদাভাবে সক্রিয় রয়েছে। পূর্বেও সায়েদাবাদ টার্মিনালে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সাধারণ পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের মধ্যে সবসময় বড় ধরনের সংঘাতের শঙ্কা বিরাজ করছে। সায়েদাবাদে টার্মিনাল কমিটির আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা ও পাল্টাপাল্টি অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মাঠপর্যায়ে জনবল ও সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দলের অভ্যন্তরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গোপন সূত্রের বরাতে আরও জানা গেছে, যেকোনো সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে। সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই পক্ষের মধ্যেই বিভিন্ন সময়ে দলবদল করে আসা এবং সুবিধাবাদী হিসেবে পরিচিত কিছু ব্যক্তির সক্রিয়তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তাদের কেউ কেউ নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য উসকানিমূলক তৎপরতা চালাচ্ছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবিলম্বে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
Leave a Reply