
যাত্রাবাড়ী ও মাতুয়াইল প্রতিনিধি:
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার মাতুয়াইল ৬৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত একটি স্মরণসভাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৩ আগস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার মাতুয়াইল খান বাড়িতে ঢাকা মহানগর ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে এই মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযোগ উঠেছে, প্রকাশ্যেই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করলেও স্থানীয় সরকারি দল ও বিরোধী দলী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী সহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ পর্যায় থেকে দৃশ্যমান কোনো প্রতিরোধ বা কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
স্থানীয় সূত্র ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ আগস্ট মাতুয়াইল খান বাড়িতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং মাতুয়াইল এলাকার বিভিন্ন স্তরের নিষিদ্ধ লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন—শান্ত নূর খাঁন শান্ত, নুরুল আমিন নুরু, সাফাতউল্লাহ সুজা, আল আমিন, বাবু, কবীর, লুৎফর রহমান, আনোয়ার, ভুলু, মাসুম, জনি, মুন্না, সাঈদউল্লাহ, পাভেল, ফারুক খাঁন, শামীম, সুজন, রনি এবং মীর সেলিমসহ প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী একত্রে একটি মসজিদে বসে এই কর্মসূচি পালন করেন। অথচ দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আন্দোলন সংগ্রাম ও ত্যাগের পর বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও ঢাকা-৫ আসনে (যাত্রাবাড়ী, ডেমরা ও কদমতলী) আওয়ামী লীগের এমন প্রকাশ্য উপস্থিতি ও তৎপরতা সাধারণ নেতাকর্মীদের মনে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
মাতুয়াইল ও যাত্রাবাড়ী এলাকার ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতারা এ বিষয়ে চরম উদাসীনতা প্রদর্শন করছেন। নেতাকর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পালিয়ে থাকা বা আত্মগোপনে থাকা ক্যাডাররা মাতুয়াইল এলাকায় এসে লুকিয়ে থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নাশকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতাদের একাংশের নিষ্ক্রিয়তা এবং মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারির অভাবে ফ্যাসিবাদী দোসররা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে তা দলের সামগ্রিক ইমেজ ক্ষুণ্ন করবে এবং এর সমস্ত দায়ভার স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের ওপরই বর্তাবে। পাশাপাশি যাত্রাবাড়ী, ডেমরা ও কদমতলী থানার ছাত্র হত্যা মামলার আসামিরা এখনো এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বা তাদের শেল্টার দেওয়া হচ্ছে বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ঢাকা-৫ আসনে আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী পন্থী ও ফ্যাসিস্ট দোসরদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা। ছাত্র আন্দোলনে সংঘটিত হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে থানায় কার্যকর নির্দেশনা প্রদান। বিতর্কিত ও নিষিদ্ধ আওয়ামী পন্থী পুলিশ কর্মকর্তাদের অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নিরপেক্ষ প্রশাসন নিশ্চিত করা।
এ বিষয়ে ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “বিএনপি কখনোই গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ড বা সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয় না। এলাকার আইনশৃঙ্খলা অবনতি ঘটানোর বা গোপন তৎপরতার মাধ্যমে নাশকতা করার যে কোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মী ও প্রশাসনকে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। কোনো অপরাধী বা নিষিদ্ধ আওয়ামী ক্যাডারকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রার্থীর নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি কোনো অনিয়ম বা নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে, সাংগঠনিকভাবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয় বিএনপি ও সচেতন মহল অবিলম্বে দলীয় হাইকমান্ড এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঢাকা-৫ আসনে বিশেষ নজরদারি বৃদ্ধি এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply