
বিশেষ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মহিউদ্দিনকে ঘিরে অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, হত্যা মামলা এবং বিভিন্ন অপপ্রচারের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে মহিউদ্দিন ও তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আস্থাভাজন এবং পরিচালক প্রশাসনের স্টাফ অফিসার হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেন মহিউদ্দিন। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসে প্রায় ৩,৫০০ ফায়ার ফাইটার ও ড্রাইভার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করার মূল পরিকল্পনাকারী বা মাস্টারমাইন্ড হিসেবে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
ফ্যাসিস্ট আমলের এই প্রভাবশালী কর্মকর্তা ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর দুর্নীতির দায়ে ঢাকার বাইরে বদলি হন। বর্তমানে তিনি ফ্যাসিস্ট আমলের অতীতের তকমা মুছে নিজেকে 'নব্য জাতীয়তাবাদী' হিসেবে জাহির করে পুনরায় স্টাফ অফিসার পদে বহাল হওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলে জোর তদবির ও তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, ইতিপূর্বে দুর্নীতির পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। তৎকালীন পরিচালক প্রশাসন এবং ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী হাবিবুর রহমানের স্টাফ অফিসার হিসেবে কাজ করার সুবাদে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহারের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন।
নারীঘটিত ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর থেকেই মহিউদ্দিন ফায়ার সার্ভিসের বর্তমান প্রশাসন (মহাপরিচালক ও পরিচালকবৃন্দ) এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভিত্তিহীন সংবাদ ও অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন। সংঘবদ্ধ একটি চক্রের মাধ্যমে তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে নিজের প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
অভিযোগকারীদের মতে, ফায়ার সার্ভিসে বর্তমানে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু থাকায় মহিউদ্দিন ও তার চক্র সেখানে অবৈধ বাণিজ্য চালাতে ব্যর্থ হয়েছে। এর জেরে তারা প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সাময়িক বরখাস্তকৃত ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সকল অভিযোগের দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক, প্রমাণ সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং দোষী প্রমাণিত হলে তাকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক—এমনটাই এখন সংশ্লিষ্ট সকলের দাবি জানান।
উল্লেখ;
বিস্তারিত থাকছে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্বে!